গভীরে দাঁত ফোটাতে পারেনি করোনা বিসিজি টিকার কারনেই তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে

গভীরে দাঁত ফোটাতে পারেনি করোনা বিসিজি টিকার কারনেই তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে

করোনা রোধে ভারতে কামালকরতে পারে পুরোনো টিকা। মার্কিন গবেষণায় দাবি তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে,

তিনটি দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হয়েছিল প্রায় একই সময়ে। কিন্তু তার ঠিক দু’ মাসের মাথায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় ভারতকে টপকে বহু যোজন এগিয়ে গিয়েছে ইতালি ও আমেরিকার মতো প্রথম বিশ্বের উন্নত দেশ। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ও পরিকাঠামোর নিরিখে ঢের পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বা কোভিড নাইনটিন তেমন গভীরে দাঁত ফোটাতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এর নেপথ্যে বিসিজি-র মতো একটি পুরোনো ও বহু প্রচলিত টিকার অবদান রয়েছে।

অর্থাৎ যক্ষ্মার বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের কারণেই করোনা-যুদ্ধে পরোক্ষে এই বাড়তি সুবিধে ভারতীয়রা পাচ্ছেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি মার্কিন গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, ভারত, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে যক্ষ্মা বা টিবি-র প্রকোপ বেশি থাকায় বহু যুগ ধরে সেখানে মানুষের জন্মলগ্নেই বিসিজি (বাসিল কালমেত-গুয়ের‍্যাঁ) প্রতিষেধক প্রচলিত। নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বায়ো-মেডিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ছ’জন গবেষকের দাবি, এই বিসিজি ভ্যাকসিনই আদতে প্রাথমিক সুরক্ষা জুগিয়ে চলেছে করোনার বিরুদ্ধে। ‘মেড-আরএক্স-আইভি’ জার্নালে বেরোনো তাঁদের গবেষণাপত্রটি সম্পর্কে সোমবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে করেছে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের (বিএমজে) অনলাইন সংস্করণও।

আমেরিকায় করোনার হামলা ২৮ জানুয়ারি শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১.৪৩ লক্ষ, মৃত প্রায় আড়াই হাজার। ইতালিতে প্রথম করোনা-আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল ৩১ জানুয়ারি। এখন সে দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৯৮ হাজার ও ১১ হাজার। ঠিক পরের দিন, ১ ফেব্রুয়ারিতে উহান ফেরত কেরালের তরুণীকে দিয়ে ভারতে করোনার হামলার সূচনা। সোমবার পর্যন্ত এ দেশে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ২৭।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের যুক্তি, এ দেশে কম সংখ্যক মানুষেরই করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, বিসিজি-র অবদান সত্যিই এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

আবার ম্যালেরিয়ার ওষুধের লাগামছাড়া ব্যবহারও যে করোনা ঠেকাতে কাজে লেগেছে, এমনটা মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, ভারতের মতো দেশে ক্লোরোকুইন কিংবা হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইনের মতো ম্যালেরিয়ার ওষুধও বহুল ব্যবহৃত।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ উচ্ছ্বলকুমার ভদ্র জানান, ১৯৪৮ থেকে এ দেশে বিসিজি-র সার্বিক টিকাকরণ শুরু হয়েছিল যক্ষ্মা নিবারণের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ১৯৭৯ সালে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে করা একটি গবেষণায় প্রমাণ করেন যে, বিসিজি আদতে ফুসফুসের যক্ষ্মায় (পালমোনারি টিবি) কোনও কাজই করে না। তার পরেও নবজাতকদের বিসিজি টিকাকরণ বন্ধ করা হয়নি। কারণ, মনে করা হয়েছিল, বিসিজি সম্ভবত হাড়ের ও মস্তিষ্কের যক্ষ্মা রোধে কার্যকর। পরবর্তী কালে বিজ্ঞানীরা বোঝেন, বিসিজি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সম্ভবত সেই জন্যই কোভিড নাইনটিন কিংবা সমগোত্রীয় ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিসিজি উপযোগী। তাই, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসেও এই নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে।

কমিউনিটি মেডিসিনের ওই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের কথায়, ‘ইতালি, স্পেন, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিসিজি-র প্রয়োগ নেই। করোনার ভয়াবহ তাণ্ডব ও মৃত্যুমিছিলের সেটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে হ্যাঁ, ভারতে এই সংক্রমণের বহর শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, আরও অপেক্ষা করে সেটা দেখা দরকার।’ আর এক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাইসেডের এপিডেমিয়োলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান দীপিকা শূর বলেন, ‘বিসিজি প্রতিষেধক যে কোনও শ্বাসনালীর সংক্রমণের বিরুদ্ধেও স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিষয়টি প্রমাণিত। হতে পারে, সেটাই কাজে লাগছে করোনা ঠেকাতে। তবে এই নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।’ তাঁর ব্যাখ্যা, সম্ভবত সেই জন্যই প্রবীণ ব্যক্তিরা, যাঁরা জন্মের পরে বিসিজি টিকা পাননি, তাঁরা করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

দীপিকার বক্তব্যের প্রতিফলন মিলছে মার্কিন ওই গবেষণাপত্রেও। তাতে দাবি করা হয়েছে, ইরানে বিসিজি টিকা চালু থাকলেও তা খুব বেশি দিনের পুরোনো নয়। ১৯৮৪-তে সে দেশে সার্বিক ভাবে বিসিজি চালু হয়। অর্থাৎ ইরানের জনসংখ্যার একটা বড় অংশই (বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ্বরা) বিসিজি পাননি। সেই জন্যই সে দেশে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ৪২ হাজার, মৃত প্রায় পৌনে তিন হাজার।

তবে দুই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞই সতর্ক করে দিচ্ছেন, বিসিজি টিকা নেওয়া আছে বলে ভারতীয়রা যেন অযথা ‘কোনও বিপদ নেই’ গোছের আত্মতুষ্টিতে না-ভোগেন। বিপদ তা হলে অনিবার্য। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেয়ে ভালো বিকল্প এই মুহূর্তে আর কিছু নেই বলে ওই দুই বিশেষজ্ঞর বক্তব্য।

সুত্রঃ https://eisamay.indiatimes.com/lifestyle/health-fitness/older-vaccines-can-be-used-in-india-to-prevent-corona/articleshow/74899248.cms

সুত্রঃ https://www.forbes.com/sites/ericmack/2020/03/31/a-vaccine-from-the-1920s-could-help-fight-the-coronavirus-pandemic/#70207ee81220

 

বড় বড় অনলাইলে শপে পারডে ২৫০০ বেতনে জবগুলো

⇒ মোবাইল কোম্পাকোম্পানির এই সার্কুলারগুলো সত্যিই সহজ পার্ট টাইম জব করুন সময় কম যাদের তারা – Part time


★ ★খুব দ্রুত যাদের জব দরকার তারা করুন ন্সস্ট্যন্ট জব –Instant


(স্পেশাল -3rd) আড়ং এ জব – Aarong Circular  (বিনা অভিজ্ঞতায় HSC পাশ)