স্বাস্থমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে আকুল আবেদন জানালে ব্যরিস্টার সুমন

আজকে এই শুক্রবার নামাজের আগে আমি আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে দুইটি কথা বলতে চাই, আমার আবেগের কথা বলতে চাই। মাননীয় নেত্রী আপনি জানেন যে, গতকালকে আপনার সামনেই স্বাস্থের যে সচিব এবং মহাপরিচালক যিনি দুইজন দুইজনে দুইরকম কথা বলেছেন আপনার সামনে। আমি বার বার বলে আসছি যে, এই মন্ত্রনালয়টি মাননীয় নেত্রী, যতগুলা ব্যর্থ হইছে এর মধ্যে ১ম টপ মন্ত্রনালয় হচ্ছে গিয়ে স্বাস্থ মন্ত্রনালয়। কেনই হবেনা মাননীয় নেত্রী, এমন একজন মন্ত্রী এইটার স্বাস্থমন্ত্রী, আপনি মনে হয় দেখেছেন মাননীয় নেত্রী, আপনি হয়তো দেখেছেন যে, ৩৭ জন লোককে পিছনে নিয়ে করোণার ব্যপারে উনি আমাদেরকে সচেতন করতে গিয়েছিলেন। আপনি জানেন মাননীয় নেত্রী উনাকে ন্যশনাল কমিটির প্রধান করা হয়েছে এবং উনি জনসমক্ষে সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, যে উনি সভাপতি ন্যশনাল কমিটির ঠিকই কিন্তু উনি কিচ্ছু জানেন না কোথায় কি হচ্ছে। এই ধরনের কথা বলার পরেও মিনিস্ট্রিয়াল রেসপন্সিবিলিটি অনু্যায়ি উনাকে ততক্ষনাত রিজাইন করার কথা ছিল। মাননীয় নেত্রী, আপনি জানেন যে, উনি হচ্ছেন গিয়ে সেই স্বাস্থমন্ত্রী, গতবছর যখন ৯০ হাজার লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল, ঢাকায় যখন মহামারি হয়েছিল তখন তিনি থাইল্যন্ডে না কোথায় পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মাননীয় নেত্রী, আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই, নিউজিল্যন্ডে লকডাউন থাকা অবস্থায় একজন স্বস্থমন্ত্রী শুধু সীবিচে বেড়াতে গিয়েছিলেন, তাকে ডীমোশন দিয়ে অন্য মন্ত্রনালয়ে ডিমোশন দিয়ে দেয়া হয়েছে মাননীয় নেত্রী। আমি একটা কথা বলতে চাই, মাননীয় নেত্রী, আপনি হয়তো ফেইসবুকে দেখেছেন, মাননীয় স্বাস্থমন্ত্রীর ছেলে এবং মাননীয়  যে স্বাস্থসচিব এবং মহাপরিচালক মিলে একটা সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়েছে। এন নাইন্টিফাইভ যে মাস্কের কথা বলা হয়েছে যে মাস্কের কারনে ডাক্তাররা আজকে হুমকির সম্মুক্ষীন, এই যে দুর্নীতির অভিযোগ, এই অভিযোগও স্বাস্থমন্ত্রনালয়ের সিন্ডিকেটের কথা বলা হচ্ছে।  মাননীয় নেত্রী, আপনার কাছে কোন কথা বলবো, মাননীয় নেত্রী অনেকগুলা কথা, একটা আলী রাদিয়াল্লাআনহুয়ের কথা বলতে চাই, তিনি বলেছেন যে, আপনি কখন বুঝবেন যে, এই সমাজ নস্ট হয়ে গেছে, কখন বুঝবেন যে, এটা কেয়ামতের লক্ষ্যন, যখন দেখবেন মুর্খরা এই বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে মন্ত্রী হয়ে বসে আছে, যখন দেখবেন ধনীরা কৃপন হয়ে গেছে, যখন দেখবেন যারা গরীর আছে তারা ধৈর্যহারা হয়ে গেছে। আমরাতো এইরকম কেয়ামতের দিকে রওনা দিচ্ছি মাননীয় নেত্রী।

আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আপনি যেভাবে কষ্ট করে যাচ্ছেন, ২/১ টা মন্ত্রনালয়ের জন্য নিশ্চয় আপনার ভালভাল কাজগুলা নষ্ট হয়ে যেতে পারেনা। মাননীয় মন্ত্রী, আমি বলছি যে, তাদেরকে বদলাইয়া অন্য আরেকজনকে দিলেইযে তারাতারি দিনের ভেতরেই যে, সব চেঞ্জ হয়ে যাবে তা বলছিনা। কিন্তু মানুষের যে কনফিডেন্স, আপনি একটা লোককে জিজ্ঞেস করেন, মাননীয় স্বাস্থমন্ত্রীর ব্যাপারে কোন ধরনের কনফিডেন্স আছে কিনা। এইরকম কনফিডেন্স না থাকলে, যে মন্ত্রীর উপর বিশ্বাস থাকেনা, তার উপর এরকম অবিশ্বাস নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়াটা দুঃখজনক মাননীয় নেত্রী।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলছি যে দেখেন, যারা শেখ রাসেলকে যারা হত্যা করেছিল, সেই মাজেদকেওতো ফাসির দন্ড দেয়ার আগে তাকে তার একটা শেষ ইচ্ছা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আর শেষ ইচ্ছাটা পুরণও করা হয়েছে। যারা আজকে আমরা যারা সুস্থ আছি বা যারা করোনা রোগী যারা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিবে তাদের অন্তত শেষ কথাটা, শেষ ইচ্ছেটা হচ্ছে গিয়ে এইরকম একটা ব্যর্থ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী রেখে আমরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাইনা।
আপনিতো চাইলেই, এইটাতো কোন এমন কোন, আপনি ছাড়া আওয়ামী লীগ এবং এই সরকারে কেউ অপরিহার্য না। একটা লোকও এখানে অপরিহার্য না। চাইলেই আপনি পরিবর্তন করে তাইলে দরকার হইলে তারে অন্য মন্ত্রনালয়ে দিয়ে দেন। কিন্তু এরকম একটা ক্রাইসিস মোমেন্টে যেলোকটা ভালকরে হিসাবই বলতে পারেনা, ক্যমেরার সামনে যেলোকটা হিসাবের কথাই বলতে পারেনা যে, এই পর্যন্ত কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, হিসেবে যে মন্ত্রী বারবার ভুল করে, তার কথা আমি কি বলবো, আর কোন কথা বলার নাই আমাদের। শুধু একটা কথা বলতে চাই যে, এরকম, যে স্বাস্থমন্ত্রী পিপিই বলতে পারেনা, বলেযে পিপিপি, মানে হচ্ছে গিয়ে তার মাথায় হচ্ছে গিয়ে পার্টনারশিপ বিজনেজ। বিজনেস ছাড়া তার মাথায় কিচ্ছু নাই। যে সে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট, এটা পর্যন্ত তার মাথায় নাই, তার মাথায় হচ্ছে গিয়ে পাবলিক পার্টনারশিপ, মানে, ব্যবসা ছাড়া তার মাথায় কিচ্ছু নাই। আমি আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারো কড়জোরে চাচ্ছি যে, এইরকম একটা ক্রাইসিস মোকাবেলায়, যদি বিশ্বাস করার মত একজন মন্ত্রী না থাকেন, তাইলে আমরা মরেও শান্তি পাবোনা।
আবারো আপনার জন্য শুভকামনা করে অন্তত আমি জানি আপনি আমার চেয়ে অনেক ভাল জানেন ভাল বোঝেন, তারপরেও আমাদের মনের কথা অন্তত ভুল হোক শুদ্ধ হোক, বেশিরভাগ মানুষ যেহেতু মনে করে যে, এই মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী এবং যারা আছেন তারা একটা সিন্ডিকেট  করে আপনাকে ডুবানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত, আমি বলি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আপনি আমাদের কথা একটু শুনতেন। এই মুহুর্তে যদি তারে একটু পরিবর্তন করে দিয়ে, একজন যার প্রতি বিশ্বাস রাখা যায়, জানিনা কতটুকু হবে। মরন যদি কপালে লিখা থাকে মরবো, কিন্তু একজন বিশ্বাসযোগ্য লোকরে যদি মন্ত্রী দিতেন তাইলে হয়তো  যুদ্ধটাতে  সেনাপতি যদি ভাল হয় তাইলে এই যুদ্ধে শহীদ হলেও মনের মধ্যে কোন কষ্ট থাকেনা। ভাল থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।