ঘরে বসে কাজ – পারডে ৫০০ থেকে ২৫০০/ ৪৫০০ সেলারি – শিক্ষা যাইহোক ইন্টারনেট চালাতে জানলেই হবে

আমার ছোট ভাই মোস্ট অব দ্য টাইম কম্পিউটারে টিপাটিপি করতেই থাকে। দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় কানে কপালে চাপাশ চাপাশ করা কষিয়ে থাবরাই কিছুক্ষন। এমনি সরকারি একটা ভার্সিটিতে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। ফাস্ট ইয়ার পরীক্ষা কমপ্লিট কিন্ত জানি রেজাল্ট তেমন ভাল হবেনা। কারন আমার ভাই মোটামোটি মানের একজন ছাত্র। সরকারি ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে কিভাবে সেই জানে। যাইহোক, পড়তে দেখিনা কখনো। আগে যাওবা মাঝে মাঝে পরাশোনা করতে দেখতাম কিন্তু ভার্সিটিতে ভর্তির পর থেকে ১ দিনও পড়তে দেখিনি। এখন শুধু দেখি সারাদিন কম্পিউটার আর ঘুরাঘুরি করতে।

মেজাজটা সবসময় তিরিক্ষি হয়ে থাকতো ওর কথা ভাবলেই। মাঝেমাঝে বলেই ফেলি, হারাদিন বইয়া বইয়া অই বালের কম্পিউটার না টিপা একটু পড়লেওতো রেজাল্ট টা একটু ভাল হয়। কিন্তু আমার কথা পাত্তা দেয় বলে মনে হয়নি কখনো।

ধুরবাল বলে চলে এসেছি বারবার।

সরকারি অফিসের বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ার কারনে, বলতে গেলে প্রায় সারাদিন আমি সময়ই পাইনা। সব মিলিয়ে আমার বেতন ৭০ থেকে ৮০ হাজার। আমার ধারনা ছিলো, কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করে বড় না হলে টাকা পয়সা মনের মত করে পাওয়া যায়না। ফলে আমি যে ৭০ হাজার টাকা আয় করি সেটার উপর আমার গর্ব ছিল অত্যাধিক। আর ধারনা ছিল যে আমার ভাইটা জীবনেও এত বড় বেতনের মুখ দেখবেনা। বড় ভাই হয়েছি তাই ভাইয়ের প্রতি ভালবাসা বেশি ফলে তেমন করে কিছু বলতেও পারিনা। খালি মনে হয় যে, যাই করুন ভাল থাকুক সুস্থ থাকুক, আমিতো আছিই, তাই কোন অভাব রাখিনি কখনো।

কিছুদিন আগের ঘটনা। আমি অফিস থেকে ফিরেছি আর আমার ভাই আমার কাছে প্রায় দৌড়ে আসলো। বলল, ভাইয়া, তোমার একাউন্ট নাম্বারটা দাওতো। মেজাজ একটু খারাপ ছিল, ওর কথা শুনে আরো খারাপ হয়ে গেল। আমি বললাম, এখন কি আমার একাউন্ট নিয়ে আমাকে পথে বসানোর প্লান করতেছো?

যদিও এতক্ষন অনেক নেগেটিভ কথা বললাম, তবুও আমার ছোট ভাইটির সাথে সম্পর্ক আমার বন্ধুর মত। ফলে আমার বসে বসানোর প্লান করতেছো প্রশ্নের জবাবে ও বললো, ধুর ভাইয়া, আজাইরা কথা বইলোনাতো, দাও একাউন্ট নাম্বারটা। ওর কনফিডেন্ট দেখে আমি একটু দমে গেলাম। বললাম, কি করবি একাউন্ট দিয়ে, ওনলাইনে গেম খেলার টাকা পরিশোধ করবি? আর তাছারা এত বড় হয়েছিস, আর তোর নিজের ব্যাংক একাউন্ট নেই কেন?

ছোট ভাই বলল, আরে ভাইয়া একাউন্ট আমি খুলে ফেলবো আগামি মাসেই, এই মাসটা শুধু তোমার একাউন্ট এ পেমেন্ট টা নিয়ে নিই আগে।

আমি হা হয়ে বললাম, পেমেন্ট নিবি মানে, কিসের পেমেন্ট?

ছোট ভাই বলল, আমি অনলাইনে গুগুলের একটা প্রজেক্টে কাজ করি। সেখান থেকেই আমি এমাসে প্রথম পেমেন্ট তুলবো।

আমি অবাক হলাম কিন্তু শো করলাম না, পাত্তাই দেইনি এমন একটা ভাব করে জিজ্ঞেস করলাম, কত টাকা রে?

ভাইয়ের জবাব, ১ হাজার।

আমি বললাম, এই সারা মাস ৩ হাজার টাকার ইন্টারনেট/ ইলেক্ট্রিসিটি খরচ করে ১ হাজার টাকার কাজ করেছিস, তার চেয়ে ভিক্ষা করলেও বেশি পেতি।

আমার ভাই এখন যে জবাবটি দিল তাতে আমার প্রায় ভিমরি খাবার দশা হল, ভাইটি বলল, ভাইয়া ১ হাজার টাকানা, ১ হাজার ডলার, বাংলাদেশি টাকায় ৮০ হাজার টাকার উপরে।

এই গল্পের নেক্সট এপিসোড লিখবো নেক্সট পোস্টে। নেক্সট এপিসোডে লিখবো যে, আমার ভাই কিভাবে এই ১ হাজার ডলার কামিয়েছিল এবং আমার একাউন্টে সত্যি সত্যি যেদিন আমার ভাইয়ের আয় করা ১ হাজার ডলার এসেছিল সেদিন আমাদের ফেমিলিতে কি কি ঘটেছিল। নেক্সট এপিসোড পড়ার আমন্ত্রন জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি।

নেক্সট এপিসোডে থাকছে, কিভাবে গুগল প্লাটফর্ম ব্যাবহার করে আমার ভাইয়ের মত আপনিও কামাতে পারেন ১ হাজার ডলার মান্থলি।

অন্যান্য


🔥 ঘরে বসে পারডে ১৫০০ – ৪৫০০ সম্মানির কাজ 🔥 Work at Home

 

বাসায় থেকেই হোটেলে কাজ – পারডে ২৫০০ সম্মানির কাজ 🔥HOTEL

 

এপ্লাইয়ের ব্যপারে কিছু বলতে চাইলে কমেন্টে লিখুন